এমটিএফইর ফাঁদে সর্বস্বান্ত শরীয়তপুরের বহু মানুষ

0


এমএলএম ব্যবসার নামে প্রায় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ (এমটিএফই)। এমএলএম কোম্পানির এই প্রতারণায় জড়িয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন শরীয়তপুরের বহু মানুষ।


গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় সব ব্যবহারকারীর ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্ট ঋণাত্মক দেখানো শুরু করে অ্যাপটি। গ্রাহকদের পক্ষে স্বয়ংক্রিয় লেনদেনের পর বিপুল লোকসান হয়েছে বলে দাবি করেছে অনিয়ন্ত্রিত এই সংস্থা।


এমটিএফই দাবি করেছিল, তারা কানাডায় নিবন্ধিত সংস্থা। এর কার্যক্রম শ্রীলঙ্কা, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও ভারতেও ছড়িয়ে ছিল। এসব দেশের ব্যবহারকারীদেরও পরিণতি একই।


জানা গেছে, কেউ জমি বন্ধক রেখে, কেউ জমানো টাকা আবার কেউবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিল অ্যাপ ভিত্তিক ওই অনলাইন মাধ্যমে।


 দেশের বিভিন্ন জেলাতে এমটিএফ অ্যাপের কয়েজন করে সিও পদ ধারিও কাজ করতেন। অন্যকে অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়ার মাধ্যমে তারাও পেতেন মোটা অংকের কমিশন।


শরীয়তপুরের শহর কিংবা গ্রাম সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল ওই অ্যাপটি। যেখানে কেবল শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিতরাই নয়; বিনিয়োগ করেছিলেন ব্যাংকার, স্বাস্থ্যকর্মকর্তা, শিক্ষক এমনকি সাংবাদিকও।


কিন্তু হঠাৎই ঘটে ছন্দপতন। গত দুই সপ্তাহ থেকে আ্যপটি থেকে বিনিয়োগকারীরা আর কোনো টাকাই উঠাতে পারছেন না। এতে যারা দ্রুত আয় করার স্বপ্ন নিয়ে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তারা এখন সর্বস্বান্ত। উল্টো ঋণের বোঝা ধরিয়ে দিয়েছে এমটিএফই।


এ বিষয়ে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়মে এমএলএম ব্যবসা অবৈধ। যে প্রতিষ্ঠানটি এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত, সেটি দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠানও নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এমএলএম নিয়ে কাজ করে না। ডিজিটাল কমার্স নিয়ে কাজ করছে। তবে বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বিষয়টি দেখভাল করে থাকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
To Top