ভারতীয় কূটনীতিক বহিষ্কারের জেরে এবার কানাডার একজন জ্যেষ্ঠ বা ঊর্ধ্বতন কূটনীতিককে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কানাডার ওই কূটনীতিককে ডেকে নিয়ে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভারতীয় কূটনীতিক বহিষ্কারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই পাল্টা ব্যবস্থা নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার।এতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরো অবনতি হলো।
মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কানাডিয়ান কূটনীতিকদের হস্তক্ষেপ এবং ভারতবিরোধী কার্যকলাপে তাদের সম্পৃক্ততার ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ’ প্রতিফলিত করেছে। তাই নয়াদিল্লি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্প্রতি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারতে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার পরই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত আলোচনা স্থগিত করা হয়।
সেই সঙ্গে বাতিল করা হয় কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মেরি এনজির অক্টোবরের ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য মিশন। এর মধ্যেই কানাডায় এক মন্দিরে শিখ নেতা নিহত হওয়ার জের ধরে দেশটি থেকে ভারতীয় এক কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত কূটনীতিক ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর অ্যাজেন্ট বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে আরো অবনতি হলো।
এদিকে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলিনি জলি সোমবার রাতে বলেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কানাডা সরকার এক ভারতীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। বহিষ্কৃত ওই কূটনীতিক কানাডায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান বলে জানা গেছে।
ভারত ও কানাডার মধ্যে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের মধ্যে সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বক্তব্য রাখেন। বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অস্বস্তি বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, নয়া দিল্লিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রুডোর সাথে আলোচনার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কানাডায় শিখ বিক্ষোভ নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেন।
এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তারা বিচ্ছিন্নতা উস্কে দিচ্ছে, ভারতীয় কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ছড়াচ্ছে, কূটনৈতিক এলাকার ক্ষতি করছে, কানাডায় ভারতীয় সম্প্রদায়ের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। ”
এটিকে কানাডার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো উল্লেখ করে ভারতের ব্যাপক সমালোচনা করে উত্তর আমেরিকার দেশটি। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


