আধুনিক জীবনযাত্রায় বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ও মনের যৌবন হারিয়ে ফেলার ভয় সবার মধ্যেই কম-বেশি কাজ করে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম মেনে চললে শারীরিক ও মানসিক যৌবন অনেক দিন ধরে রাখা সম্ভব। “চিরতরুণ” থাকা আসলে কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়, বরং দৈনন্দিন অভ্যাসের ফল।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌবন ধরে রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস। প্রতিদিন প্রচুর ফলমূল, শাকসবজি, বাদাম, মাছ ও অলিভ অয়েল জাতীয় স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলতে হবে। ডাক্তারদের মতে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার কোষের ক্ষয় রোধ করে বয়সের ছাপ কমায়।
নিয়মিত ব্যায়াম আরেকটি অপরিহার্য উপাদান। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম (হাঁটা, সাঁতার, যোগব্যায়াম) শরীরের নমনীয়তা বজায় রাখে, পেশি শক্তিশালী করে এবং হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে। যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন মানসিক চাপ কমিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় বলে জানিয়েছেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফাহিমা খাতুন।
পর্যাপ্ত ঘুম যৌবনের আরেক চাবিকাঠি। প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম শরীরের কোষ মেরামত করে এবং কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়। ঘুমের অভাবে ত্বকে বলিরেখা পড়ে দ্রুত।
এছাড়া পানি পান, ধূমপান ও অ্যালকোহল ত্যাগ, সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখাও অত্যন্ত জরুরি। হাসি-খুশি থাকা, নতুন কিছু শেখা এবং সামাজিক যোগাযোগ বয়সকে মন থেকে দূরে রাখে।
বিখ্যাত পুষ্টিবিদ ডা. রাহাত ইসলাম বলেন, “যৌবন আসলে একটি জীবনধারা। আজ থেকেই ছোট ছোট পরিবর্তন আনুন, দেখবেন আয়নায় নিজেকে অনেক দিন ধরে তরুণ দেখতে পাবেন।”
পরামর্শসমূহ সংক্ষেপে:
১.প্রতিদিন ২-৩ লিটার পানি পান করুন।
২.সপ্তাহে ৪-৫ দিন ব্যায়াম করুন।
৩.রাত ১০টার মধ্যে ঘুমাতে যান।
৪.ত্বকের যত্নে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
৫.মেডিটেশন বা শখের কাজে সময় দিন।
চিরতরুণ থাকার এই যাত্রা শুরু করতে আজই ছোট একটা পদক্ষেপ নিন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শুধু বয়স কমায় না, জীবনের মানও বাড়িয়ে দেয়।


