সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রলের শিকার শিক্ষিকার পাশে সারাদেশের শিক্ষিকারা

0


 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন প্রাথমিক শিক্ষিকার গানের ভিডিওকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া ট্রলের বিরুদ্ধে এখন সারাদেশের শিক্ষিকারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করছেন। প্রাথমিক শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হল আকাশে’-এর ভিডিও প্রকাশের পর তাকে নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নেতিবাচক মন্তব্য ও ট্রল শুরু হলে তার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষিকারা একই গানের ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।


বিউটি রানী পাল একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। সম্প্রতি তিনি ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের কালজয়ী গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হল আকাশে’ গেয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন। গানটি আশরাফ বাবুর কথা ও সুরে রচিত এবং বাংলাদেশের আধুনিক সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় সৃষ্টি। শিক্ষিকার সহজ ও আন্তরিক কণ্ঠে গাওয়া এই ভিডিওটি অনেকের মনোযোগ আকর্ষণ করলেও কিছু ব্যবহারকারী তাকে নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য, কটাক্ষ এবং ট্রল শুরু করেন। এতে শিক্ষিকার মর্যাদা ও পেশাগত সম্মানহানির অভিযোগ উঠেছে।


এই ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষিকারা একযোগে সোচ্চার হয়েছেন। তারা নিজ নিজ এলাকায় একই গান গেয়ে ভিডিও বানিয়ে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবে শেয়ার করছেন। অনেকেই ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শিক্ষিকাকে ট্রল নয়, সম্মান দিন’, ‘গান গাওয়া অপরাধ নয়’, ‘শ্রাবণের মেঘগুলো আকাশে জড়ো হয়েছে, আমরাও ঐক্যবদ্ধ’ ইত্যাদি। বিভিন্ন জেলার শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, একজন সহকর্মীর ওপর অন্যায় আক্রমণকে তারা সবাই নিজেদের ওপর আক্রমণ বলে মনে করছেন।


শিক্ষক সমাজের একাংশ বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যক্তিগত জীবন ও শখকে নিয়ে ট্রলের সংস্কৃতি বাড়ছে। অনেকেই মনে করেন, শিক্ষকদের সাংস্কৃতিক চর্চা ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করা উচিত, উপহাস করা নয়। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকরা শিশুদের মধ্যে সংগীত ও সাংস্কৃতিক চেতনা জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এমন পরিস্থিতিতে একজন শিক্ষিকাকে নিয়ে ট্রল শিক্ষক সমাজের মর্যাদাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।


এই প্রতিবাদ আন্দোলন ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষও শিক্ষিকাদের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, গান গাওয়া কোনো অপরাধ নয়; বরং এটি শিক্ষকদের মানবিক ও সাংস্কৃতিক দিকের প্রতিফলন।


শ্রাবণের মেঘ যেমন আকাশে জড়ো হয়, তেমনি এখন সারাদেশের শিক্ষিকারাও একসুরে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন। তাদের এই ঐক্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
To Top