বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেখে মনে দাগ কাটলো যা বর্তমানে আমাদের রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে একেবারে দুরূহ ব্যাপার। অদ্ভুত রকম ভালোলাগা বিস্ময়কর জীবন যাপন করে যাচ্ছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।নিম্নে এস এম জাকির হোসেনের ফেসবুক পেজে পোস্টটি উল্লেখ করা হলো :
দুপুর পৌনে তিনটা।কাওরান বাজার স্টার হোটেলে দুপুরের খাবার খাচ্ছি। আমার মুখোমুখি টেবিলে একজন মানুষ বসলেন চেহারা পরিচিত মনে হচ্ছিল কিন্তু অপ্রয়োজনীয়ভাবে জিজ্ঞেস করা হয়নি।
খাবার শেষে কৌতুহল চেপে রাখতে না পেরে জানতে চাইলাম! ভাই আপনাকে পরিচিত মনে হচ্ছে? কিছু মনে না করলে পরিচয় জানতে পারি। তিনি হেসে উঠলেন বললেন আমার নাম জাহাঙ্গীর আলম। বললাম গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। তিনি স্বভাবগতভাবেই হেসে বললেন হ্যাঁ।
আমি কেবল অবাক হইনি। বিস্ময় ঘোরলাগা কাটতেও সময় লেগেছে সাথে অদ্ভুত রকমের ভালো লাগছিল।
যেখানে রাজধানীর একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর অস্ত্রধারী দেহরক্ষী নিয়ে চলাফেরা করেন। সেখানে গাজীপুরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সিটির মেয়র একদম একাকী মধ্যবিত্তের স্টার কাবাবে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছেন। মানুষের ভিড় নেই, দেহরক্ষী নেই অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি তিনি একদম একা কি খাবার খাচ্ছিলেন।
হোটেলের ওয়েটার রাও তাকে চিনে নি। কোন স্পেশাল মেনু বা স্পেশাল কদর ছিল না।
টাকার অভাবে তিনি স্টরে খাচ্ছেন নিশ্চয়ই বিষয়টি এমন নয়। এটা হয়তো তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস মানুষের সঙ্গে থাকার অভ্যাস রপ্ত করেছেন। যেটা দেশের পলিটিশিয়ানদের মধ্যেই নেই। ওয়ার্ডের মেম্বার হলেও তার ভাবে আশেপাশে থাকা যায় না।
জনপ্রতিনিধিরা অলি-আওলিয়া নয়। দোষ ত্রুটি আছে। জাহাঙ্গীর আলম এর ব্যতিক্রম নয়, তবে মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া অসম্ভব ক্ষমতা আছে জাহাঙ্গীর আলমের। মেয়র হওয়ার পরে করেছেন বেশ কিছু ব্যতিক্রম ধর্মী কাজ। প্রাণশক্তি আছে, উদ্যোগ আছে। হয়তো আরো পারবেন।


