শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের উপর যুবদল নেতার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলা

0


 শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে অভিযুক্ত স্থানীয় যুবদল নেতা। হামলায় শিক্ষকের ডান হাত ভেঙে যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি অভিযুক্ত নেতাকে বহিষ্কার করেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।


ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর দেড়টার দিকে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের উপসী তিন দোকান এলাকায়। বিঝারী উপসী তারা প্রসন্ন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ নুরুল আমীন (রতন) স্কুলের উন্নয়ন কাজ তদারকি শেষ করে অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় ৭-৮ জনের একটি দল তাঁর অটোরিকশা গতিরোধ করে নামিয়ে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে। হামলায় তাঁর ডান হাতের কবজির হাড় ভেঙে যায় এবং পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।


আহত শিক্ষককে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আঘাত গুরুতর হওয়ায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়তে পারে এবং পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। 


শিক্ষক নুরুল আমীন বলেন, "হামলাকারীরা আমাকে অমানুষিকভাবে পিটিয়েছে এবং ফেলে রেখে গেছে। এটি পরিকল্পিত হামলা।" তাঁর ছেলে হিমেলও একই অভিযোগ করে বিচার দাবি করেছেন।


হামলার অভিযোগ উঠেছে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান শিকদার (সিকদার) এবং নড়িয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান নিক্সনের বিরুদ্ধে। তাদের নেতৃত্বে সহযোগীরা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার কারণ হিসেবে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং এটি রাজনৈতিক অপপ্রচার। মিজানুর শিকদার বলেন, "আমি তখন নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে টেন্ডার সংক্রান্ত কাজে ছিলাম।


নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় কিন্তু লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি। তবে তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম খান বলেন, ভুক্তভোগী মামলা করলে প্রশাসন সহযোগিতা করবে।


এই ঘটনা এলাকায় শিক্ষক সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতার প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
To Top