শরীয়তপুর জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ৯ দিনে হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শিশুসহ তরুণরা হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে ২৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
সর্বশেষ সোমবার (৩০ মার্চ) জাজিরা উপজেলার দিকে নগর মাদবরকান্দি গ্রামের ৮ মাস বয়সী শিশু মালিহা (মনির হোসেনের মেয়ে) ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এর আগে ২৩ মার্চ জাজিরা উপজেলার বড় গোপালপুর গ্রামের দেড় বছর বয়সী তাসিফা (জাকির হোসেনের মেয়ে) এবং ২২ মার্চ ভেদরগঞ্জ উপজেলার বালারহাট গ্রামের ৯ মাস বয়সী রুকাইয়া (ইসহাক মিয়ার মেয়ে) একই হাসপাতালে মারা যায়। শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন এসব মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে বর্তমানে হামে আক্রান্ত এক শিশু ও দুই তরুণসহ অন্তত তিনজন ভর্তি রয়েছেন। সোমবার ভর্তি হওয়া তরুণরা হলেন শরীয়তপুর পৌরসভার বাঘিয়া এলাকার ইমন মুন্সি (১৯) এবং সদর উপজেলার দাদপুর গ্রামের শাহীন কাজী (১৮)। তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট এলাকার দুই বছর বয়সী ওসমানসহ অন্য শিশুরাও জ্বর, কাশি, পাতলা পায়খানা ও শরীরে র্যাশ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিতু আক্তার বলেন, “হামের প্রাদুর্ভাব সারাদেশেই ছড়িয়েছে। আমরা আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিচ্ছি।” সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন জানান, স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি খোঁজ নিচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।


