শরীয়তপুর পৌর এলাকার ধানুকায় অবস্থিত দারুল আরকান ইবতেদায়ী মাদ্রাসার অফিস সহকারী ইমরান ছৈয়ালের বিরুদ্ধে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২১ জুন ২০২৬) সকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তাকে মাদ্রাসা থেকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে পালং মডেল থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ইমরান ছৈয়াল মাদ্রাসায় অফিস সহকারীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিশুদের কুরআন ও বাংলা পড়াতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন করে আসছিলেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করতেন।
সর্বশেষ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মাদ্রাসা শেষে শিশুটি পরিবারের কাছে বিষয়টি জানালে তারা প্রথমে গুরুত্ব দেননি। পরে রবিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ইমরান ছৈয়ালকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, “কয়েকদিন ধরে আমার মেয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসব কথা বলছিল, কিন্তু আমি বিশ্বাস করিনি। বৃহস্পতিবার আবারও বললে আমরা খুঁজতে গিয়েও তাকে পাইনি। আজ এলাকাবাসীর সহায়তায় ধরেছি। শুনেছি শুধু আমার মেয়ে নয়, আরও অনেক শিশুর সঙ্গে একই কাজ করেছে। আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা আতিকুর রহমান বলেন, “অনেক বাচ্চা তাদের মায়েদের বলেছিল, কিন্তু লোকলজ্জায় কেউ কিছু বলেনি। আজ এক অভিভাবক প্রতিবাদ করায় সবাই এগিয়ে এসেছে। আলেমরা সমাজের দর্পণ, তারা যদি এমন কাজ করেন তাহলে আমরা কোথায় যাব? এই অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”


