শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হারুন খাঁকে (৫৫) মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মামলায় জড়িয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, স্থানীয় নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রতিহিংসা ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। এতে তার তিন যুগেরও বেশি সময়ের সুনামধন্য ব্যবসা ও সামাজিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
হারুন খাঁ আংগারিয়া বাজারে ‘স্টুডেন্ট লাইব্রেরি’ নামে প্রায় ৩৫ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ডিলার এবং সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরিবারের ভাষ্য অনুসারে, মানবপাচার বা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
হারুন খাঁর মেয়ে লুবনা অভিযোগ করে বলেন, মামলার বাদী লিটন সরদারের স্ত্রী ফুলমালা বেগম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সেলিম শিকদারের স্ত্রী আইরিন বেগম, যিনি তাদের আত্মীয়। পরিবার আইরিনের পক্ষ নেওয়ায় নির্বাচনের পর থেকে লিটন সরদার তাদের হয়রানি শুরু করেন। লুবনা জানান, লিটন সরদারের ছেলে সাইফুলকে ইতালি পাঠানোর বিষয়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছিল সেলিম শিকদার ও আইরিন বেগমের সঙ্গে। তার বাবার কোনো ভূমিকা ছিল না। তিনি আদালতের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
হারুন খাঁর স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, মামলার এজাহারেও ইতালি যাওয়ার প্রস্তাব, দর-কষাকষি ও টাকা লেনদেনের কথা সেলিম শিকদার ও আইরিন বেগমের সঙ্গে উল্লেখ রয়েছে। তার স্বামীর একমাত্র ‘অপরাধ’ হলো সেলিম শিকদারের মামা হওয়া। লিটন সরদার বারবার দোকানে এসে টাকা ফেরতের জন্য সহযোগিতা চাইতেন, কিন্তু হারুন খাঁ সে দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মামলায় জড়ানো হয়। সাইফুল দেশে ফিরে সাংবাদিকদের কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতেও হারুন খাঁর নাম উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। হারুন খাঁ বর্তমানে হাজতে আছেন এবং উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে অসুস্থ।
এ বিষয়ে মামলার বাদীপক্ষ বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


