দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আমফান অতি প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে সুপার সাইক্লোন এ পরিণত হয়েছে ইতিমধ্যে। যার ফলে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আমফান শতাব্দীর প্রথম সুপার সাইক্লোন এর জায়গা দখল করে নিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের বাতাসের গতিবেগ ২৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠা নামা করছে। সাধারনত বঙ্গোপসাগরে কোন ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের বেগ যদি ঘন্টায় সর্বোচ্চ ২২০ কিলোমিটার উপরে উঠে যায় তাকে সুপার সাইক্লোন বলা হয়। আর এক্ষেত্রে ঘূর্ণিঝড় আম পান এর কেন্দ্রের বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ২৬৫ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে তাই এটা সুপার সাইক্লোন ক্যাটাগরি ফোরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর ইতিমধ্যে সমুদ্র বন্দর গুলোকে বিভিন্ন বিপদ সংকেত প্রদান করেছে।পায়রা ও মংলা সমুদ্রবন্দর অপেক্ষাকৃত কাছাকাছি অবস্থানে থাকায় দুটি সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ঝড়ের সময় আবহাওয়া অধিদপ্তর, সমুদ্রবন্দরগুলোকে১১ টি এবং নদীবন্দর গুলোকে ৪টি সংকেত নির্ধারিত করে দেওয়া হয়।
সমুদ্র বন্দরগুলোর জন্য ১১টি সংকেত নিম্নরূপ :
১.নম্বর দূরবর্তী সংকেত: জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে।দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১কিলোমিটার। ফলে সামুদ্রিক ঝড়ের সৃষ্টি হবে।
২.নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত: গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে ।সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২থেকে ৮৮ কিলোমিটারের মধ্যে। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবেনা। তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।
৩. নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত: বন্দর ও বন্দরে নোঙ্গর করা জাহাজগুলো দূর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্খা রয়েছে।বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হতে পারে।
৪.নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত: বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ৫১-৬১ কিলোমিটারের মধ্যে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার মতো তেমন বিপদজনক সময় হয়নি।
৫.নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর একটি ঝড়ের কবলে পড়বে। বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। ঝটি বন্দরকে বাঁদিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৬.নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্র এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ একটানা ঘণ্টায় ৬২থেকে ৮৮ কিলোমিটার। বন্দরকে ঝড়টি ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৭. নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামূদ্রিক ঘূণিঝড়ের কবলে পড়বে ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৬২-৮৮ কিমি। ঝড়টি বন্দরের উপর বা এর কাছ দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৮.নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে।ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বা দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৯.নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত: বন্দর প্রচন্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় কবলিত হতে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৮৯ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে।
১০.নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত: বন্দর প্রচন্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার বেশি হতে পারে।
১১.নম্বর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত: আবহাওয়া বিপদ সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করেন।
নদী বন্দর গুলোর জন্য চারটি সংকেত নিম্নরূপ:
১.নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত: বন্দর এলাকার ক্ষণস্থায়ী ঝড়ো আবহাওয়া কবলে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে কালবৈশাখীর ক্ষেত্রেই সংকেত প্রদর্শিত হয়।এই সংকেত আবহাওয়ার চলতি অবস্থার ওপর সতর্ক নজর রাখার তাগিদ দেয়।
২.নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত: বন্দর এলাকার নিম্নচাপের সমতুল্য তীব্রতার একটি ঝড় ,তার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার বা একটি কালবৈশাখী ঝড় তার বাতাসের গতিবেগ ৬১ কিলোমিটার বা তদূর্ধ্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৬৫ ফুট বা এর কম দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট নৌযানকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়।
৩.নম্বর নো বিপদ সংকেত: বন্দর এলাকা ঝড়ে কবলিত। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ একটানা ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগের একটি সামুদ্রিক বন্দর এলাকায় আঘাত হানতে পারে। অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করতে বলা হবে।
৪. নম্বর নৌ মহাবিপদ সংকেত: বন্দর এলাকায় একটি প্রচন্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার সামুদ্রিক ঝড়ে কবলিত এবং শিগগিরই বন্দর এলাকায় আঘাত হানবে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৮৯ কিলোমিটার। সব ধরনের নৌযান কে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।


