শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ অবস্থায় শরীয়তপুরের নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ এর তিন উপজেলার ৫৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি উঠে গিয়েছে।এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোন কোনটির মধ্যে প্রায় হাঁটু সমান পানি উঠে পড়েছে। এতে স্কুল খোলা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে নড়িয়া উপজেলার ২২ টি, জাজিরা উপজেলায় ১৯ টি, ভেদরগঞ্জ উপজেলা চারটির মাঠে পানি উঠেছে, আর ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ।
জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ এ সময় বলেন,সরকার আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা প্রদান করেছে। তিনি ১২ তারিখের আগেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পানি কমে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ফলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে সমস্যা হবে না।
অপরদিকে আজ সকাল ৬ টায় শরীয়তপুরের পদ্মার পানি বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার এর উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পদ্মার তীরবর্তী অঞ্চলে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। সরকারিভাবে যে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি এসে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, পদ্মার তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গন ও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বন্যা ও ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষজন। জাজিরা সড়কে পানি উঠে পড়ায় যানবাহন চলাচলে পড়তে হচ্ছে বিরম্বনায়। ভাঙ্গন ঠেকাতে পদ্মা, মেঘনা ও কীর্তিনাশা নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।


