ফেরি বন্ধ রয়েছে এক মাস ধরে, ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে ঢাকামুখি মানুষ

0


 

দীর্ঘ একমাস যাবত মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সিগঞ্জে শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় শরীয়তপুর সহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। সবচেয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন অসুস্থ রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজনরা। দ্রুততম সময়ে ঢাকা পৌঁছতে না পারায় মুমূর্ষু রোগী ঢাকা যাওয়ার পথেই মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। বাধ্য হয়ে অনেকে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার পার হচ্ছেন উত্তাল পদ্মা।


পদ্মা সেতুর পিলারের সাথে কয়েক দফায় ফেরি ধাক্কা খাওয়া ও পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে গত ১৮ আগস্ট থেকে শিমুলিয়া - বাংলাবাজার নৌরুটে সব ধরনের ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। এরপর জাজিরার মাঝিরঘাটে একটি বিকল্প ফেরিঘাট নির্মাণ করা হলেও বারবার তারিখ পরিবর্তন করেও গত ২৯ দিনে এটি ফেরি চালু করা সম্ভব হয়নি।


বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ শিমুলিয়া - বাংলাবাজার নৌরুট ব্যবহার করে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলা সমূহের যাতায়াত করে। শিমুলিয়া - বাংলাবাজার নৌরুট বন্ধ হওয়ার আগে এই রুটে ১৮ ফেরি চলাচল করত। এতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর সহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলার মানুষ জরুরি ও উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য ঢাকায় যাতায়াত করতো। ফেরি বন্ধ এই রুটে অ্যাম্বুলেন্স পারাপার বন্ধ রয়েছে। এতে জরুরী ও মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আত্মীয় স্বজনেরা। অনেকে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও লঞ্চে করে রোগীদের পারাপার করছেন। আবার কেউ কেউ অ্যাম্বুলেন্সে রাজবাড়ী জেলা হয় দোলোদিয়া - পাটুরিয়া, এবং  চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌ রুট ব্যবহার করে ঢাকা যাচ্ছেন। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে তেমনি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। এতে দেরিতে ঢাকা পৌঁছানোর কারণে পথিমধ্যে অনেক রোগী মারা যাচ্ছেন।


এ সম্পর্কে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার আনিস খালাসী জানান, আমার বাবার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল অথবা হূদরোগে হাসপাতালে নিতে হবে। কিন্তু ফেরি চলাচল না করায় সরাসরি এম্বুলেন্সে নিতে পারিনি। দ্রুত ঢাকা যাওয়ার জন্য ইঞ্জিনচালিত টলারে ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পার হতে বাধ্য হয়েছি।


নড়িয়া উপজেলার কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব দেবনাথ (৪২) হূদযন্ত্রের সমস্যা দেখা দেওয়ায় গত শুক্রবার শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার অবস্থার অবনতি হলে দৈলোদিয়া - পাটুরিয়া নৌরুট হয়ে ঢাকা রওনা হয় স্বজনরা। ঢাকা নিতে দেরি হওয়ায় তার পথিমধ্যেই মৃত্যু হয়।


বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীতে স্রোতের তীব্রতা না কমা পর্যন্ত শিমুলিয়া - বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল করা সম্ভব নয়। এ কারণে শরীয়তপুরের জাজিরায় মঙ্গল মাঝিঘাট এলাকায় ২৫ আগষ্ট একটি নতুন ফেরি ঘাট নির্মাণ করা হয়। যাতে ছোট ব্যক্তিগত গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, সরকারি দপ্তরের জরুরি গাড়ি পারাপার করার কথা ছিল। ঘাটের জন্য একটি রো রো ফেরি পল্টন আনা হয়েছে। এ ঘাটে তিন থেকে চারটি ফেরি চলাচল করার কথা ছিল। কিন্তু যে চ্যানেল ব্যবহার করে মঙ্গল মাঝিরঘাটে ফেরি চালানো হবে। সে চ্যানেলে পলি জমে নদীর বিভিন্ন স্থানে ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছে। তাই আপাতত এই নৌরুটে ফেরি চলাচল করা সম্ভব নয়। স্রোত কমে এলে শিমুলিয়া - বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু হবে।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
To Top