সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে খ্যাত শরীয়তপুর জেলায় তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে দলীয় প্রতীক বিহীন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড জানায়, জেলা আওয়ামী লীগ ও দলীয় সংসদ সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর এ দুটি জেলায় তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক থাকছে না। এ দুটি জেলার প্রার্থিতা "উন্মুক্ত" রাখা হয়েছে। এজন্যে তৃতীয় ধাপের শরীয়তপুর গোসাইরহাট উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে কাউকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়নি।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আব্দুর রহমান এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও দলীয় এমপিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শরীয়তপুর ও মাদারীপুরে কাউকে দলীয় প্রার্থী করা হয়নি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শরীয়তপুরের তিন এমপি, শরীয়তপুর- ১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাবেদুর রহমান খোকা শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে শরীয়তপুরে নৌকা প্রতীক না দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করেন। এছাড়া মাদারীপুরের তিন সংসদ সদস্য ও স্থানীয় জেলা আওয়ামী লীগ একই ধরনের অনুরোধ করে। এ কারণে (শরীয়তপুর ও মাদারীপুর) দুই জেলায় আসন্ন তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
শরীয়তপুরের জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ প্রসঙ্গে জানান,আমরা নেত্রীকে জানিয়েছিলাম, শরীয়তপুর জেলার ৬৪ ইউনিয়নের যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান তারা সবাই আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মী। এ জেলায় বিএনপির সহ অন্য কোন দলের সাংগঠনিক কোন শক্তি নেই। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মত লোকবল ও তাদের নেই। সে কারণে দলীয় প্রতীকে ভোট না করে উন্মুক্ত নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য দাবি জানিয়েছিলাম। কারণ অনেকেই যোগ্য প্রার্থী। একজনকে বেছে নেওয়া খুবই কঠিন কাজ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী যারা তারাই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বিজয়ী হবেন। তারাই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান।

